ইসলামিক শিক্ষা

রুকইয়াহ শরইয়াহ কী?

রুকইয়াহ শরইয়াহ হলো কুরআনের আয়াত, আল্লাহর সুন্দর নাম ও গুণাবলি (আসমা-উল-হুসনা) এবং রাসূল ﷺ শেখানো সহীহ দোয়ার মাধ্যমে রোগ-ব্যাধি, আধ্যাত্মিক সমস্যা ও মানসিক অস্থিরতার জন্য আল্লাহর কাছে শিফা প্রার্থনা করা।

রুকইয়াহর শাব্দিক অর্থ

الرقية هي العوذة

রুকইয়াহ মানে আশ্রয় গ্রহণ করা বা আশ্রয় প্রার্থনা করা।

পাঠ করা বা বলা

الرقية: هي القراءة أو القول

রুকইয়াহ অর্থ পাঠ করা অথবা বলা।

আল্লাহর আশ্রয় গ্রহণ

التعويذ: هو الالتجاء إلى الشيء

আল্লাহর নিকট আশ্রয় গ্রহণ করাই প্রকৃত রুকইয়াহর উদ্দেশ্য।

রুকইয়াহর প্রকারভেদ

✅ রুকইয়াহ শারইয়াহ

  • কুরআনের আয়াত
  • সহীহ সুন্নাহ
  • আল্লাহর নাম ও গুণাবলি
  • তাওহীদের ভিত্তিতে
  • আরবি + বাংলা বৈধ দোয়া

❌ রুকইয়াহ শিরকিয়্যাহ

  • রোগী, পিতা, মাতার নাম জানতে চাওয়া
  • জিনের সাহায্য নেওয়া
  • শিরকি বাক্য
  • অস্পষ্ট মন্ত্র
  • হারাম
  • তাবিজ এ কুফরি লেখা
🕌

রুকইয়াহর ইতিহাস

ইসলামের আবির্ভাবের আগেও আরবে ঝাড়ফুঁকের প্রচলন ছিল। তবে তাতে অনেক শিরকি বিষয় ও কুসংস্কার মিশ্রিত ছিল। নবীজি (সা.) এসে শিরকি অংশগুলো বাদ দিয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করার পদ্ধতি শিখিয়ে দেন।

📜 হাদিসের দলিল:

আউফ ইবনে মালিক আশজাঈ (রা.) বলেন, "আমরা জাহেলী যুগে ঝাড়ফুঁক করতাম। আমরা রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসুল! এ বিষয়ে আপনি কী বলেন? তিনি বললেন: 'তোমরা তোমাদের ঝাড়ফুঁকের মন্ত্রগুলো আমার কাছে পেশ করো। যদি তাতে শিরক না থাকে তবে ঝাড়ফুঁক করাতে কোনো দোষ নেই'।" (সহিহ মুসলিম: ২২০৩)

📖 কুরআন থেকে দলিল:

আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করেছেন যে, কুরআন নিজেই একটি শেফা বা আরোগ্য।

সুরা বনী ইসরাঈল: ৮২—
"আমি কুরআনে এমন বিষয় নাযিল করি যা মুমিনদের জন্য আরোগ্য ও রহমত।"

সুরা ইউনুস: ৫৭—
"হে মানবজাতি! তোমাদের কাছে তোমাদের রবের পক্ষ থেকে নসীহত এসেছে এবং অন্তরের রোগের শেফা এসেছে।"

🤝 হাদিস থেকে দলিল:

রুকইয়াহর ইতিহাসে সবচেয়ে বিখ্যাত ঘটনা এটি। সাহাবীগণ এক গোত্রপ্রধানকে সুরা ফাতেহা পড়ে ফুঁ দিয়ে বিষমুক্ত করেছিলেন.

হাদিস: আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বলেন, "নবী (সা.)-এর একদল সাহাবী এক সফরে ছিলেন... সেই গোত্রের নেতাকে বিচ্ছু দংশন করেছিল। আবু সাঈদ খুদরী (রা.) তার ওপর সুরা ফাতেহা পড়ে ফুঁ দিলেন এবং সে সুস্থ হয়ে গেল। রাসুল (সা.) এই শুনে হেসে দিলেন এবং বললেন: 'তুমি কীভাবে জানলে যে এটি (সুরা ফাতেহা) একটি রুকইয়াহ?'"

রেফারেন্স:
সহিহ বুখারি, হাদিস নং ২২৭৬;
সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২২০১।

আবূ সাঈদ (রাযি.) হতে বর্ণিত

أَنَّ نَاسًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَتَوْا عَلَى حَىٍّ مِنْ أَحْيَاءِ الْعَرَبِ فَلَمْ يَقْرُوهُمْ فَبَيْنَمَا هُمْ كَذَلِكَ إِذْ لُدِغَ سَيِّدُ أُولَئِكَ فَقَالُوا هَلْ مَعَكُمْ مِنْ دَوَاءٍ أَوْ رَاقٍ فَقَالُوا إِنَّكُمْ لَمْ تَقْرُونَا وَلاَ نَفْعَلُ حَتَّى تَجْعَلُوا لَنَا جُعْلاً فَجَعَلُوا لَهُمْ قَطِيعًا مِنَ الشَّاءِ فَجَعَلَ يَقْرَأُ بِأُمِّ الْقُرْآنِ وَيَجْمَعُ بُزَاقَهُ وَيَتْفُلُ فَبَرَأَ فَأَتَوْا بِالشَّاءِ فَقَالُوا لاَ نَأْخُذُهُ حَتَّى نَسْأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَسَأَلُوهُ فَضَحِكَ وَقَالَ ‏ "‏ وَمَا أَدْرَاكَ أَنَّهَا رُقْيَةٌ خُذُوهَا وَاضْرِبُوا لِي بِسَهْمٍ ‏"‏ ‏.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর একদল সাহাবী আরবদের কোন এক গোত্রের নিকট আসলেন। কিন্তু তারা তাদের মেহমানদারী করতে অস্বীকৃতি জানাল। ইতোমধ্যে সেই গোত্র প্রধান বিচ্ছু বা বিষাক্ত কিছু দ্বারা দংশিত হলো। তারা সাহাবীদের কাছে এসে বলল, আপনাদের কাছে কি কোন ওষুধ বা ঝাড়ফুঁককারী আছে? সাহাবীরা বললেন, তোমরা আমাদের মেহমানদারী করনি, তাই আমরা তোমাদের কোন সাহায্য করব না যতক্ষণ না তোমরা আমাদের জন্য কোন পারিশ্রমিক নির্ধারণ কর। অতঃপর তারা একপাল ছাগল পারিশ্রমিক দিতে রাজি হল। অতঃপর এক সাহাবী সূরা ফাতিহা তিলাওয়াত করে ফুঁ দিতে শুরু করলেন এবং সে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেল। তারা ছাগল নিয়ে আসলে সাহাবীরা বললেন, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস না করে এগুলো গ্রহণ করব না। তারা তাঁকে জিজ্ঞেস করলে তিনি হেসে দিলেন এবং বললেন: তুমি কীভাবে জানলে যে এটি একটি রুকইয়াহ? ছাগলগুলো নিয়ে নাও এবং আমার জন্যও একটি অংশ রেখো।

(সহীহ মুসলিম ৩৯/২৩, হাঃ ২২০১, আহমাদ ১১৩৯৯)
Shopping Cart
No products in the cart.