জিনের আবাসস্থল ও খাদ্য

জিনের আবাসস্থল ও খাদ্য

জিনের আবাসস্থল

ভালো জিন সাধারণত লোকালয়ে আসে না। তবে বদজিন লোকালয়ে অনেক আসা-যাওয়া করে। এ সময় তারা অবস্থানের জন্য তুলনামূলক নোংরা জায়গা নির্বাচন করে। যেমন দুর্গন্ধের স্থান, গোসলখানা, নাপাকির স্তূপ, উট রাখার স্থান, পেশাবখানা-পায়খানা ইত্যাদি। সাহাবি যায়েদ ইবনে আরকাম রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল সা. ইরশাদ করেছেন,

إِنَّ هَذِهِ الْحُشُوسُ مُحْتَصَرَةٌ، فَإِذَا دَخَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَقُلْ اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ الْخُبُثِ وَالخَبَائِثِ

শৌচাগারে জিন থাকে। তোমরা এসব স্থানে প্রবেশের পূর্বে দোয়া পড়বে। (ওপরে রেখাযুক্ত দোয়ার অর্থ) আয় আল্লাহ, আমি তোমার নিকট জিন (নর-নারীর) অনিষ্ট থেকে পানাহ চাই।২

অনুরূপভাবে ইমাম বুখারি রহ. ও ইমাম মুসলিম রহ. আনাস ইবনে মালিক রা. থেকে রেওয়ায়াত করেন, রাসুল সা. শৌচাগার যাওয়ার পথে দোয়া পড়তেন।

বিলাল ইবনে হারিস রহ. বর্ণনা করেন,

عَنْ بِلَالِ بْنِ الْحَارِثِ، قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي بَعْضٍ أَسْفَارِهِ، فَخَرَجَ لِحَاجَتِهِ وَكَانَ إِذَا خَرَجَ لِحَاجَتِهِ يُبْعِدُ، فَأَتَيْتُهُ بِإِدَاوَةٍ مِنْ مَاءٍ، فَانْطَلَقَ، فَسَمِعْتُ عِنْدَهُ خُصُومَةَ رِجَالٍ، وَلَغَطًا لَمْ أَسْمَعْ مِثْلَهَا ، فَجَاءَ. فَقَالَ: بِلَالُ فَقُلْتُ: بِلَالٌ ، قَالَ: أَمَعَكَ مَاءٌ؟ قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ: أَصَبْتَ فَأَخَذَهُ مِنِّي فَتَوَضَّأَ ، قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللهِ ، سَمِعْتُ عِنْدَكَ خُصُومَةَ رِجَالٍ وَلَغَطًا مَا سَمِعْتُ أَحَدَّ مِنْ أَلْسِنَتِهِمْ، قَالَ: اخْتَصَمَ عِنْدِي الْجِنُّ الْمُسْلِمُونَ وَالْجِنُّ الْمُشْرِكُونَ سألُونِي أَنْ أَسْكِنَهُمْ فَأَسْكَنْتُ الْمُسْلِمِينَ الْجَلَسَ، وَأَسْكَنْتُ الْمُشْرِكِينَ الْغَوْرَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ كَثِيرٍ : قُلْتُ لَكَثِيرٍ : مَا الْجَلَسُ ، وَمَا الْغَوْرُ ؟ قَالَ: الْجَلَسُ الْقُرَى وَالْجِبَالُ، وَالْغَوْرُ مَا بَيْنَ الْجِبَالِ وَالْبِحَارِ قَالَ كَثِيرٌ: مَا رَأَيْنَا أَحَدًا أَصِيبَ بِالْجَلَسِ إِلَّا سَلِمَ ، وَلَا أُصِيبَ أَحَدٌ بِالْغَوْرِ إِلَّا لَمْ يَكَدْ يَسْلَمُ

রেফারেন্স 

১. ইমাম হাকেম রহ.-এর আল-মুসতাদরাক: ৩৭০২, ইমাম বাইহাকি রহ.-এর আলআসমা ওয়াস সিফাত: ৮২৭, ইমাম বাগাবি রহ.-এর শরহুস্ সুন্নাহ: ৩২৬৪।

ইমাম হাকেম রহ. মুসতাদরাকে এ হাদিসের সনদকে সহিহ বলেছেন এবং ইমাম যাহাবি রহ. তার সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন।

২ সুনানে আবু দাউদ: ২৯৬, ইমাম নাসায়ি রহ.-এর সুনানে কুবরা ৯৮২০, ও সুনানে ইবনে মাজাহ: ২৯৬। ইমাম ইবনে হিব্বান ও হাকিম হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন। ا 120 كتاب الحيض 2 R كتاب الوضوء .

বিলাল ইবনে হারিস রা. একজন সাহাবি। তিনি ষাট হিজরিতে আশি বছর বয়সে ইনতেকাল করেন। -তাকরিবুত তাহযিব। 

আমরা রাসুল সা.-এর সঙ্গে একদিন সফরে বের হলাম। গন্তব্যে পৌঁছার পর রাসুল সা. কাযায়ে হাজতের জন্য বাইরে গেলেন। আমি এক বদনা পানি নিয়ে তার নিকট গেলাম। হঠাৎ আমি অনেক লোকের ঝগড়া ও শোরগোল শুনতে পেলাম। এমন আওয়াজ আমি ইতিপূর্বে কখনো শুনিনি। রাসুল সা. যখন হাজত শেষ করলেন, তখন আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমি আপনার নিকট অনেক লোকের ঝগড়া ও শোরগোল শুনতে পেলাম, যা ইতিপূর্বে কখনো শুনিনি।

রাসুল সা. বললেন, আমার নিকট মুসলমান জিন ও মুশরিক জিন

নিজেদের ঝগড়া মিটানোর জন্য এসেছিল। তারা আমার নিকট এই মর্মে দরখাস্ত করে যে, আমি যেন মুসলমান জিন ও মুশরিক জিনদের বসবাসের জন্য পৃথক বাসস্থান নির্ধারণ করে দিই। সেমতে আমি মুসলমান জিনদের জন্য পাহাড়, আর মুশরিক জিনদের জন্য পাহাড় ও সমুদ্রের মধ্যবর্তী এলাকা নির্ধারণ করে দিয়েছি।১

ফায়েদা: এ হাদিস থেকে দুটি কথা জানা গেল। যথা-

1. মুসলমান জিনেরা পৃথিবীর বিভিন্ন পাহাড় ও উঁচু স্থানে বসবাস করে।

2. মুশরিক জিনেরা নিচু স্থান ও নালা-নর্দমা, ময়লা-আবর্জনার স্তূপ, ঝাড়-জঙ্গল, মাটির গর্ত, গুহা ইত্যাদিতে বসবাস করে।

আবদুল্লাহ ইবনে সারজিস রা. বলেন,

أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لَا يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي جُحْرٍ قَالُوا لِقَتَادَةَ: وَمَا يُكْرَهُ مِنَ الْبَوْلِ فِي الْجُحْرِ ؟ قَالَ : يُقَالَ إِنَّهَا مَسَاكِنُ الْجِنِّ

রাসুল সা. (ইঁদুর, সাপ ইত্যাদির) গর্তে পেশাব করতে নিষেধ করেছেন। (কাতাদা রহ.-কে লোকেরা বলল, গর্তে পেশাব করতে নিষেধ করার কারণ কী?) তিনি বললেন, গর্ত জিনদের বাসস্থান।২

রেফারেন্স.. 

১. ইমাম তাবারানি রহ. রচিত আল-মুজামুল কাবির: ১১৪৩।

২ সুনানে নাসায়ি: ৩৪, সুনানে আবু দাউদ: ২৯। এ ছাড়াও বর্ণনা করেছেন ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল, হাকিম, ইবনে খুযাইমা, বাইহাকি রহ. প্রমুখ। ইমাম ইবনে খুযাইমাহ ও ইবনুস সাকান রহ. এই হাদিসকে সহিহ বলেছেন। -আত্তালাখসুল হাবির ১: ১০৬

আবু সাইদ রা. বর্ণনা করেন,

رَأَيْتُ حَسَنًا وَحُسَيْنَا مُسْتَنْقِعَانِ وَعَلَيْهِمَا بُرْدَتَانِ فَأَعْظَمْتُ ذَلِكَ لِحَالِ ، فَقَالَا: يَا أَبَا سَعِيدٍ أَمَا تَعْلَمُ أَنَّ لِلْمَاءِ سُكَانًا ؟ الْبُرْدَتَيْنِ

আমি হাসান ও হুসাইন রা.-কে ঝিল (বিল বাহ্রদ)-এ নামতে দেখেছি। তখন তাদের গায়ে চাদর থাকার কারণে আমি অবাক হয়েছি। তারা বলেন, হে আবু সাইদ, আপনি কি জানেন না যে, পানির মধ্যেও বসবাসকারী (জিন) আছে?’

আবু হুরাইরা রা. বর্ণনা করেন,

عَن أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَهَى أَنْ يَتَغَوَّطَ الرَّجُلُ فِي الْقَرْعِ مِنَ الْأَرْضِ قِيلَ وَمَا الْفَرْعُ قَالَ أَنْ يَأْتِيَ أَحَدُكُمُ الْأَرْضَ قَدْ كَانَ فِيهَا النَّبَاتُ كَأَنَّمَا قُمَّتْ قِمَامَتُهُ فَذَلِكَ مَسَاكِنُ إِخْوَانِكُمُ مِنَ الْجِنِّ

রাসুল সা. فرع )করা’)-য়ে পেশাব-পায়খানা করতে নিষেধ করেছেন। তখন সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞেস করলেন, করা’ কী জিনিস? রাসুল সা. বললেন, যেই জমিনে শাক-সব্জি হয়, সেই জমিনে পায়খানা করবে না। যখন পায়খানায় ঝাড়ু দেওয়া হয়, তখন তার সঙ্গে জিনের স্পর্শ লাগে। কেননা ওই স্থানটা হলো তোমাদের ভাই জিনদের বাসস্থান।২

রেফারেন্স.. 

১. ইমাম দুলাবি রহ.-এর আল-কুনা ওয়াল আসমা ৮১৭। দুলাবি রহ.-এর মৃত্যু: ৩১০ হিজরি।

ইমাম ইবনে আদি রহ.-এর ৩১০ :8 ا الكامل في ضعفاء الرجال

জিনের খাদ্য

জিন আল্লাহর মাখলুক। মানুষের মতো তারাও পানাহার করে। একবার রাসুল সা. আবু হুরাইরা রা.-কে বলেন, যাও আমার জন্য কিছু টুকরা পাথর নিয়ে এসো, ইসতিনজা করার জন্য। সঙ্গে এও বলে দিলেন, وَلَا تَأْتِنِي بِعَظْمٍ وَلَا بروئةٍ তবে হাড্ডি বা গোবরের টুকরা আনবে না।

ইসতিনজার পর আবু হুরাইরা রা. জিজ্ঞেস করলেন, ইয়া রাসুলাল্লাহ, হাড্ডি বা গোবর আনতে নিষেধ করলেন কেন? তখন রাসুল সা. বললেন,

هُمَا مِنْ طَعَامِ الجِنِّ، وَإِنَّهُ أَتَانِي وَقْدُ جِنّ نَصِيبِينَ، وَنِعْمَ الجِنُّ، فَسَأَلُونِي الزَّادَ، فَدَعَوْتُ اللَّهَ لَهُمْ أَنْ لَا يَمُرُّوا بِعَظْمٍ ، وَلَا بِرَوْثَةٍ إِلَّا وَجَدُوا عَلَيْهَا طَعَامًا

এই দুটি জিনের খাদ্য। আমার নিকট নাসিবিনের (আরবের একটি স্থানের নাম) একদল জিন এসেছিল। দলটি খুবই ভালো। তারা আমার কাছে খাদ্যের আবেদন জানায়। আমি আল্লাহ তায়ালার কাছে দোয়া করি, তারা হাড্ডি ও গোবরের মধ্যে যেন খাবার পায়।১

ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল সা. জিনদের বলেছেন,

لَكُمْ كُلُّ عَظْمٍ ذُكِرَ اسْمُ اللهِ عَلَيْهِ يَقَعُ فِي أَيْدِيكُمْ أَوْفَرَ مَا يَكُونُ لَحْمًا وَكُنْ بَعْرَةٍ عَلَفٌ لِدَوَائِكُمْ.

৭৫

প্রত্যেক হাড্ডি যার উপর আল্লাহর নাম নেওয়া হবে, তা তোমাদের হাতে এলেই গোশতে ভরপুর হয়ে যাবে। আর গোবর তোমাদের জানোয়ারদের খাদ্য।

আর আমাদের বলেছেন,

فَلَا تَسْتَنْجُوا بِهِمَا فَإِنَّهُمَا طَعَامُ إِخْوَانِكُمْ

সুতরাং তোমরা গোবর ও হাড্ডি দিয়ে ইসতিনজা করবে না। কেননা তা তোমাদের ভাই জিনদের খাবার।

শয়তান বাম হাতে পানাহার করে

রাসুল সা. তার উম্মতকে ডান হাতে পানাহার করতে বলেছেন, বাম হাতে পানাহার করতে নিষেধ করেছেন। রাসুল সা. বলেছেন,

إِذَا أَكَلَ أَحَدُكُمْ فَلْيَأْكُلْ بِيَمِينِهِ، وَإِذَا شَرِبَ فَلْيَشْرَبُ بِيَمِينِهِ فَإِنَّ الشَّيْطَانَ يَأْكُلُ بِشِمَالِهِ، وَيَشْرَبُ بِشِمَالِهِ

যখন তোমাদের কেউ খাদ্য গ্রহণ করবে, তখন সে যেন ডান হাতে খাদ্য গ্রহণ করে। আর পান করার সময়ও যেন ডান হাতে পান করে। কারণ শয়তান বাম হাতে পানাহার করে।

মানুষের খানায় শয়তানের ভাগ

জাবির বিন আবদুল্লাহ আনসারি রা. থেকে বর্ণিত, রাসুল সা. বলেছেন,

” إِذَا دَخَلَ الرَّجُلُ بَيْتِهُ، فَذَكَرَ اللهَ عِنْدَ دُخُولِهِ وَعِنْدَ طَعَامِهِ، قَالَ الشَّيْطَانُ: لَا سَبِيتَ لَكُمْ، وَلَا عَشَاءَ، وَإِذَا دَخَلَ، فَلَمْ يَذْكُرِ اللَّهَ عِندَ دُخُولِهِ، قَالَ الشَّيْطَانُ: ذَرَكْتُمُ الْمَبِيتَ، وَإِذَا لَمْ يَذْكُرِ اللَّهَ عِنْدَ طَعَامِهِ، قَالَ: أَدْرَكْتُمُ الْمَبِيتَ وَالْعَشِ “

রেফারেন্স —-

১- সহিহ বুখারী – ৩৮৬০

২-সহিহ মুসলিম – ৪৫০

৩-সহিহ মুসলিম – ২০২০

কোনো ব্যক্তি যদি নিজের ঘরে প্রবেশ করার সময় এবং খানা খাওয়ার সময় আল্লাহর নাম নেয়, তাহলে শয়তান (তার সঙ্গীদের) বলে, এখানে তোমাদের রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা হবে না। এখানে রাতের খাবার তোমরা পাবে না। আর যদি ঘরে প্রবেশের সময় আল্লাহর নাম না নেয়, তাহলে শয়তান তার সঙ্গীদের বলে, এখানে তোমাদের রাত্রিযাপনের ব্যবস্থা হবে। খানা খাওয়ার সময় আল্লাহর নাম না নিলে বলে, এখানে তোমাদের রাত্রিযাপনও হবে এবং খাবারের ব্যবস্থাও হবে।

ফায়েদা: উপরের আলোচনা থেকে একটি কথা পরিষ্কার জানা গেল যে, হালাল পশু জবাই করার সময় যদি আল্লাহর নাম নেওয়া না হয়, তাহলে সেই পশুর গোশত যেমন মানুষ মুসলমানের জন্য খাওয়া হারাম, ঠিক জিন মুসলমানের জন্যও সেই পশুর হাড্ডি খাওয়া হারাম। কারণ তারাও শরিয়তের মুকাল্লাফ।

মানুষের সঙ্গে শয়তান থাকে

আল্লাহ প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে একটা জিন রেখেছেন। সে সবসময় মানুষকে খারাপ কাজের প্ররোচনা দেয়। তদ্রূপ প্রত্যেক মানুষের সঙ্গে একজন ফেরেশতাও রেখেছেন। সে মানুষকে সৎকাজের প্রেরণা দেয়। আল্লাহ বলেন,

وَمَنْ يَعْشُ عَنْ ذِكْرِ الرَّحْمَنِ نُقَيِّضْ لَهُ شَيْطَنًا فَهُوَ لَهُ قَرِينٌ (۶۳) وَ إِنَّهُمْ لَيَصُدُّونَهُمْ عَنِ السَّبِيْلِ وَ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ مُهْتَدُونَ (۷۳) حَتَّى إِذَا جَاءَنَا قَالَ بَلَيْتَ بَيْنِي وَبَيْنَكَ بُعْدَ الْمَشْرِقَيْنِ فَبِئْسَ الْقَرِينُ (۸۳)) [الزخرف]

আর যে ব্যক্তি দয়াময় আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ হয়, আমি তার জন্য একটি শয়তান নিয়োজিত করি। তখন এই শয়তান তার সহচর হয়। (৩৬) তারাই মানুষকে সৎপথ হতে বিরত রাখে, আর মানুষ ধারণা করে, তারা সুপথেই রয়েছে। (৩৭) অবশেষে (কিয়ামতের দিন) সে যখন আমার কাছে আসবে, বলবে, হায় আমার ও তোমার মাঝে যদি পূর্ব-পশ্চিমের দূরত্ব থাকত! শয়তান কত নিকৃষ্ট সহচর! (৩৮)২

হযরত আয়েশা রা. বর্ণনা করেন,

أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ خَرَجَ مِنْ عِنْدِهَا لَيْلًا، قَالَتْ: فَغِرْتُ عَلَيْهِ، فَجَاءَ فَرَأَى مَا أَصْنَعُ، فَقَالَ: مَا لَكِ؟ يَا عَائِشَةُ أَغِرْتِ ؟ فَقُلْتُ: وَمَا لِي لَا يَغَارُ مِثْلِي عَلَى مِثْلِكَ ؟ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ : أَقَدْ جَاءَكِ شَيْطَانُكِ قَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَوْ مَعِيَ

সহিহ মুসলিম: ২০১৮।

সুরা যুখরুফ :৪৩..  আয়াত..  ৩৬,৩৭,৩৮

شَيْطَانٌ ؟ قَالَ: نَعَمْ قُلْتُ: وَمَعَ كُلِّ إِنْسَانٍ ؟ قَالَ: نَعَمْ قُلْتُ: وَمَعَكَ؟ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ: نَعَمْ، وَلَكِنْ رَبِّي أَعَانَنِي عَلَيْهِ حَتَّى أَسْلَمَ

এক রাতে রাসুল সা. তার নিকট হতে বের হলেন। তিনি বলেন, ফলে রাসুল সা.-এর প্রতি আমার মন খারাপ হলো। এর মধ্যে রাসুল সা.

ফিরে এলেন। তিনি আমার অবস্থা দেখে বললেন, তোমাকে তোমার শয়তান পাকড়াও করেছে। আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ, আমার সঙ্গে শয়তান আছে? রাসুল সা. বললেন, হ্যাঁ, প্রত্যেক মানুষের সঙ্গেই শয়তান আছে। আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ, আপনার সঙ্গেও? রাসুল সা. বললেন, হ্যাঁ, আমার সঙ্গেও। তবে আমার প্রতিপালক আমাকে সাহায্য করেছেন। ফলে সে অনুগত হয়ে গেছে।’

লাল পশুর মানের

আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল সা. বলেছেন,

নুষকে একজন লেন,

او ليد ন্য য়। প্রণা সে

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَا مِنْكُمْ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا وَقَدْ وُكِلَ بِهِ قَرِينُهُ مِنَ الْجِنِّ قَالُوا: وَإِيَّاكَ؟ يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ: وَإِيَّايَ إِلَّا أَنَّ اللهَ أَعَانَنِي عَلَيْهِ فَأَسْلَمَ، فَلَا يَأْمُرُنِي إِلَّا بِخَيْرٍ

তোমাদের প্রত্যেকের সঙ্গে একজন জিন সহচর নিযুক্ত করা হয়েছে। সাহাবায়ে কেরাম বললেন, আপনার সঙ্গেও, ইয়া রাসুলাল্লাহ? রাসুল সা. বললেন, আমার সঙ্গেও। তবে আল্লাহ আমাকে সাহায্য করেছেন। ফলে সে আমার অনুগত হয়েছে। এখন সে শুধু ভালো কাজের পরামর্শই দেয়।২

ইবনে মাসউদ রা. থেকে অন্য সনদে বর্ণিত হাদিসে রাসুল সা. বলেন,

وَقَدْ وُكِلَ بِهِ قَرِينُهُ مِنَ الْجِنِّ وَقَرِينُهُ مِنَ الْمَلَائِكَةِ

তোমাদের প্রত্যেকের সঙ্গেই একজন জিন ও একজন ফেরেশতা সহচর নিযুক্ত করা হয়েছে।

ফায়েদা: রাসুল সা. তো শয়তানের যাবতীয় ধোঁকা, প্রতারণা ও প্ররোচনা থেকে মুক্ত ছিলেন। সুতরাং উপরিউক্ত আয়াত ও হাদিসে শয়তানের খপ্পর থেকে বাঁচার জন্য আমাদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ইতিপূর্বে আমরা আলোচনা করেছি যে, খারাপ জিনকেই শয়তান বলা হয়। উপরিউক্ত হাদিস-দুটি থেকেও তা বোঝা যায়। কারণ এক হাদিসে জিন

নিযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, অপর হাদিসে শয়তান নিযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এ থেকে বোঝা যায়, দুষ্ট জিনই শয়তান।

রেফারেন্স 

* সহিহ মুসলিম: ২৮১৫।

* সহিহ মুসলিম: ২৮১৪।

* সহিহ মুসলিম: ২৮১৪।